শপথ নিয়েই দ্রুত নির্বাচন চাইলেন বিএনপির রুমিন

প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০১৯

ডেস্ক: বিএনপির টিকেটে একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি হিসেবে শপথ নিয়েই দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানালেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শপথ নেওয়ার পর বিধি মোতাবেক শপথ বইয়ে স্বাক্ষর শেষে সংসদের সিনিয়র সচিবের কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, নিশ্চয়ই প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে সংসদে আসা আমার জন্য আনন্দের। তবে আমি এমন একটি সংসদে যোগ দিতে যাচ্ছি যে সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না। সংসদ গঠিত হওয়ার পর থেকেই বলেছি, এটি অবৈধ সংসদ, এখনো দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি, এটি অবৈধ সংসদ। আমি খুব খুশি হব যদি আমার সংসদ সদস্য হওয়ার মেয়াদ একদিনের বেশি না হয়। আমি চাই দ্রুত একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠিত হোক।

এর আগে, দুপুর ১২টায় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম এমপি। সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। পরে রুমিন ফারহানা এমপি হিসেবে রীতি অনুযায়ী শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

এদিকে, চলমান সংসদকে অবৈধ বলায় সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান, অবৈধ বলছেন তাহলে কেন শপথ নিলেন? জবাবে ব্যারিস্টার রুমিন বলেন, বিষয়টি খুব পরিষ্কার। এটা হচ্ছে আমাদের গণতান্ত্রিক স্পেস। আমাদের কথা বলার জায়গাগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। সেই অর্থে দেখতে পাচ্ছি সংসদ একটি ভালো অ্যাভিনিউ, যেটা আমরা ব্যবহার করতে পারি – আমাদের দলের কথা, দেশের কথা ও মানুষের কথা বলার জন্য। আর সেই স্পেসটা ব্যবহার করার জন্য আমাদের এই সংসদে আসা।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সংখ্যাগত দিক থেকে নিশ্চয়ই অনেক কম। তারপরও আশা করছি, সংসদে যদি একজনও ন্যায্য কথা বলেন তাকে যথেষ্ট সময় ও সুযোগ দেওয়া হবে। সরকারের নিজের স্বার্থেই এই সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার মামলার মেরিট, তার বয়স, সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় তিনি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য। তাকে জামিন বঞ্চিত করে কারাগারে রাখা হয়েছে। যার পুরোটাই বেআইনি। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। নিশ্চয়ই সেই বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে কথা বলব।

এসকে/

Comments