ছাত্রদের আন্দোলনে সমর্থন দেয়ায় ইবি ছাত্রলীগ শাখার কার্যক্রম বন্ধ করে দিলো কেন্দ্রীয় কমিটি

প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৮

একুশ ডেস্ক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সোমবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা যায়, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিসহ বিভিন্ন খাতে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে। আন্দোলন চলাকালে শাখা ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড ও অন্দোলনে সমর্থন দেয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন মহলে ছাত্রলীগের নামে অভিযোগ দায়ের করতে শুরু করেন।

সেই অভিযোগ উঠে আসার পরপরই  ইবি ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি। একই সাথে কমিটির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তদন্তু কমিটি গঠন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার কারণে ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঠেকাতে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অভিযোগ পাঠিয়েছে বলে জানান ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

একাডেমিক শাখা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে বিভিন্ন খাত তৈরি করে প্রশাসন। বিগত বছরগুলোতে ভর্তিসংক্রান্ত ১৯টি খাত থাকলেও সিন্ডিকেট সভায় তা বাড়িয়ে ৩২টি করা হয়, যা ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর করা হয়। এতে একবারেই ৪ গুণ ফি বাড়ানো হয়। সে সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সংগঠন এই অযৌক্তিক ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছিল এবং তা ফলপ্রসু হয়নি।

এ বছর ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি আবেদন ফি বাড়িয়ে তিনগুণ করা হয়। যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নেমেছিল। এই আন্দোলনের সাথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ একাত্মতা ঘোষণা করলে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। যার ফলে প্রশাসনের সাথে ইবি ছাত্রলীগের মনমালিন্য সৃষ্টি হয়।

এই সূত্র ধরে প্রশাসনের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি ইবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কাছে ভিত্তিহীন অভিযোগ করে বলে কমিটির অনেকে জানিয়েছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত করে। একইসাথে ওই কমিটির বিরুদ্ধে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- আল নাহিয়ান খান, মো. শাকিল ভূঁইয়া ও জাহাঙ্গীর মঞ্জিল। কমিটিকে আগামী ১৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভর্তি ফি বিষয়টি একটি মীমাংসিত বিষয়। বিভিন্ন মহলের মতামত নিয়ে আমরা ভর্তি ফি কিছুটা বৃদ্ধি করেছিলাম। তবে এতদিন পর ছাত্রলীগ কী উদ্দেশ্য নিয়ে আন্দোলন করছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের কারণ, প্রাসঙ্গিকতা এবং করণীয় অনুসন্ধানের জন্য আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক আন্দোলনে পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। প্রশাসন থেকে কেন্দ্রে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।’

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন জানান, ‘ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল চর্চা ও ছাত্রদের পাশে থাকাই কী আমাদের অপরাধ? তা না হলে কেন প্রশাসন কেন্দ্রের নিকট আমাদের নামে অভিযোগ করবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।’

বিআইজে/

Comments