সিটি নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হলে চরম মাশুল দিতে হবে-চরমোনাই পীর

প্রকাশিত: ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০১৮

বাংলাদেশে ইসলামের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না-চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর, মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম(পীর চরমোনাই)বলেন, বাংলাদেশে ইসলামের বিজয়ের সূর্যোদয় হয়েছে।

এদেশের মানুষ রাজনৈতিক তৃতীয় শক্তি হিসেবে ইসলামকে গ্রহণ করছে। স্বাধীনতার পর থেকে এদেশের মানুষ বার বার ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। কখনো শেখ মুজিবুৃর রহমানকে ক্ষমতায় বসিয়েছে।কখনো প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রপ্রধান বানিয়েছে। দীর্ঘ দিন হোসেইন মোহাম্মাদ এরশাদ সাহেবকে রাষ্ট্রের কর্ণধার বানিয়েছে। বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। এরপর একাধিকবার শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছে।

কিন্তু বার বার এই ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ফলাফল শূন্য। যে শান্তির আশায়, যে মুক্তির নেশায় এই ক্ষমতার পালাবদল-সে শান্তি এবং মুক্তি এদেশের মানুষের ভাগ্যে জোটেনি। তাই মানুষ বিকল্প শক্তি হিসেবে এবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

গতকাল ২৬ জুলাই বৃহ:বার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে- মাদক, সন্ত্রাস-দুর্নীতি নির্মূল এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার দাবিতে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপর্যুক্ত কথা বলেন।

ফেনীর ঐতিহাসিক মিজান ময়দানে প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝে বিকাল তিনটা থেকে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভার সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলার সভাপতি, মাওলানা কাজী গোলাম কিবরিয়া।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন- বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মানুষ সুষ্ঠুভাবে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারছে না। ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দনীয় দল ও প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারছে না। তারপরও সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে আমরা দেখতে পাচ্ছি-এদেশের মানুষ আওয়ামীলীগ, বিএনপির বিকল্প হিসেবে ইসলামী আন্দোলনকে বেছে নিচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলনের প্রতিক হাতপাখাকে আস্থার প্রতিক হিসেবে গ্রহণ করছে। ইসলামের প্রতি জনগণের এই উৎসাহ উদ্দীপনা দেখে আল্লাহর রহমতে আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি-বাংলাদেশের আগামী ভবিষ্যত ইসলামের। বাংলাদেশে ইসলামের এই অগ্রযাত্রাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।

চরমোনাই পীর আরো বলেন, আগামী ৩০ জুলাই দেশের তিনটি সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সেখানে প্রার্থী দিয়েছি। সিটিগুলোতেও আমরা দেখতে পাচ্ছি, মানুষ বিকল্প শক্তি হিসেবে ইসলামী আন্দোলনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিনি সরকারকে কঠোর হুশিয়ারি করে বলেন, অন্যান্য নির্বাচনের মতো সিটি নির্বাচনগুলোতে এবারও যদি ভোট ডাকাতি হয়, তাহলে সরকারকে এর চরম মাশুল দিতে হবে।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব, জননেতা অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক, মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি, আলহাজ জান্নাতুল ইসলাম, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, কে এম আতিকুর রহমান, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, শেখ ফজলুল করীম মারুফ, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মাক্কী, মাওলানা মীর আহমাদ মীরু, মাওলানা ইসমাঈল হাবীব, মাওলানা হারুন প্রমুখ।

জনসভায় মুহতারাম আমীর পীর সাহেব চরমোনাই ফেনীর তিনটি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে ফেনী (১ )আসনে মাওলানা কাজী গোলাম কিবরিয়া, ফেনী (২) আসনে মাওলানা নুরুল করীম বেলালী, ফেনী (৩) আসনে মাওলানা আবদুর রাজ্জাককে পরিচয় করিয়ে দেন।

Comments