ঋণ খেলাপির দায়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হুইপ ফিরোজের

প্রকাশিত: ৮:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৮

একুশ নিউজ: ঋণ খেলাপির দায়ে আসন্ন একাদাশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে জাতীয় সংসদের হুইপ আ স ম ফিরোজের।

সোনালী ব্যাংক থেকে জাতীয় সংসদের হুইপ ফিরোজের নেওয়া ঋণের সুদ মওকুফ ও নবমবারের মত ঋণ পুনঃতফসিলের সিদ্ধান্ত হাই কোর্ট স্থগিত করায় এই শঙ্কায় পড়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশনস অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (বিআরপিডি) ১৫তম সার্কুলার অনুযায়ী ঋণ তিনবারের বেশি পুনঃতফসিল করা যায় না।

কিন্তু মেসার্স পটুয়াখালী জুট মিলস লিমিটেডের নামে আ স ম ফিরোজের নেওয়া ঋণ সোনালী ব্যাংক ১৯৯৪ সাল থেকে এ বছর পর্যন্ত নয়বার পুনঃতফসিল করেছে।

সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট সোনলী ব্যাংকের পরিচালনা পর্যদ ঋণের সুদ মওকুফ করে নবমবারের মত ওই ঋণ পুনঃতফসিল করে।

পরে বাংলাদেশ ব্যাংক তা অনুমোদনও দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তই স্থগিত করে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।

মেসার্স পটুয়াখালী জুট মিলের ঋণ বারবার পুনঃতফসিল করার ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা মানতে সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আশির দশকে রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংক থেকে আ স ম ফিরোজের মালিকানাধীন মেসার্স পটুয়াখালী জুট মিলস লিমিটেড যে ঋণ নিয়েছিল সুদে-আসলে সে ঋণের পরিমাণ দাড়িয়েছে ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

গত ১৯ আগস্ট সোনালী ব্যাংক তাদের বোর্ড অব ডাইরেটরস-এর ৫৯৪তম সভায় ঋণের সুধ মওকুফ করে এবং ঋণের পুনঃতফসিল করে।

সোনালী ব্যাংকের ঋণ মওকুফ ও পুনঃতফসিলের এ সিদ্ধান্তকে গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুমোদনও দেয় বাংলদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে গত সপ্তাহে হাই কোর্টে রিট করেন বাউফল পৌর মেয়র মো. জিয়াউল হক।

আদালতে রিটকারী পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ, সঙ্গে ছিলেন ও এম মাইনুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

দশম সংসদে পটুয়াখালী-২ আসন থেকে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংসদ আ স ম ফিরোজ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

/আরএ

Comments