কে এই ব্যারিস্টার সুমন?

স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা-ব্রিজ নির্মাণ, এলাকার বিভিন্ন দুর্নীতি-অসঙ্গতি নিয়ে লাইভ প্রোগ্রাম, বিশেষ করে নুসরাত হত্যা মামলা, প্রেসকিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি, প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মামলা ইত্যাদি বিষয়ে গঠণমূলক কাজের মাধ্যমে সমাজের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইদুল হক সুমন। নুসরাত হত্যা মামলা নিয়ে হাইকোর্টে শুনানী চলাকালীন হাইকোর্টের বিচারক বলেন, ‘সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। ব্যারিস্টার সুমনও সমাজের দর্পণ।’

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের ছেলে সায়েদুল হক। নিজের উপজেলায়, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের বাইরে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে আইনজীবী পেশায় আছেন। হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলা সদরের পাশে পীরবাজার নামক গ্রামে তার জন্ম। তার বাবা সাধারণ একজন ব্যবসায়ী। বাবা-মায়ের ৬ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট সুমন।

শৈশব কেটেছে চুনারুঘাটেই। স্থানীয় কেজি স্কুলে তার শিক্ষার হাতে খড়ি। তারপর ডিসিপি হাইস্কুলে ভর্তি। এখান থেকেই এস এস সি পাশ করি। তারপর ঢাকা কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে মার্কেটিং এ ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকেই বিবিএ, এমবিএ। পরে লন্ডন থেকে ল’ পড়েন।

এলাকার যুব সমাজকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের ভোগান্তি লাঘবে শুধুমাত্র স্বেচ্ছাশ্রমে তিনি ২১টি ব্রিজ ও ৫টি রাস্তা নির্মাণ করেছেন। ব্যক্তিগত অর্থ ও শ্রমের দ্বারা সংস্কার করেছেন আরও ৪০টি রাস্তা। এ হিসেব শুধু বিগত জাতীয় নির্বাচন আগ পর্যন্ত। এরপরের হিসেবে আরো বেড়েছে।

ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে তিনি শিশুদেরকে ১ হাজার খেলার সামগ্রী বিতরণ, ৫টি খেলার মাঠ মেরামত ও বঙ্গবন্ধুর নামে ৫টি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করেন। চা শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নে বিভিন্ন আর্থিক সহযোগিতা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেন সুমন। তিনি গ্রাম পুলিশদের বেতন-ভাতা ডিজিটালাইজেশনের স্বার্থে ১শটি মোবাইল ফোন প্রদান করেন।

ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ১৮ বছর ধরে আমি এলাকার উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে আমি ইবাদত মনে করি। নিজের পেশা থেকে অর্জিত অর্থের সিংহভাগই আমি ব্যয় করি সাধারণ মানুষের কল্যাণে। আমার গন্তব্য নিজের সফলতা দিয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জন্মভূমি ও এর বাইরের উন্নয়নে সর্বসাধ্য দিয়ে চেষ্টা করা।

তিনি বলেন, আমি এতোতাই অসহায় ছিলাম যে, আমার বাবার জানাজায় আসার জন্য আমার টিকিটের টাকাটা পর্যন্ত ছিলো না। সেই সময় মোবাইল ফোনে আমি ফোন দিয়ে বলি আপনি ফোন টা ধরে রাখেন আর আমাকে বলুন আমার বাবার লাশটা এখন কোথায় আছে? প্রত্ত্যুতরে তিনি বলে,’ এখন কবরের পাশে আছে, নিচে নামাচ্ছি মাটি দিচ্ছি’ এ ভাবেই আমি আমার বাবার দাফনে অংশ নেই। এ ব্যাপারটা আমাকে অনেক নাড়া দিয়েছে। তখন থেকেই আমি সংকল্প করেছি যে টাকার পিছনে ছুটবো না। সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।

Comments