অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় নবজাতকের মৃত্যু, দায় কার?

প্রকাশিত: ১১:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০১৮

তুহিন খন্দকার: আজ থেকে শুরু হওয়া পরিবহন শ্রমিকদের ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনের ১ম দিনে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় সংকটাপন্ন সাত দিন বয়সী এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ রোববার (২৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চান্দগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুটি বড়লেখা সদর ইউনিয়নের আজমির গ্রামের কুটন মিয়ার মেয়ে।

শিশুটির চাচা আকবর আলী বলেন, সাত দিন আগে শিশুটির জন্ম হয়। শনিবার (২৭ অক্টোবর) রাত থেকে সে মায়ের দুধ পান করছিল না। সকালে আমরা তাকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে দেখে দেরি না করে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসকের কথা মতো আমরা শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেই। কিন্তু পথে পথে পরিবহন শ্রমিকরা থামিয়ে নানাভাবে হয়রানি করেছে। প্রথমে বড়লেখা উপজেলার দরগাবাজারে অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেন তারা। বেশ কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেয়।

একইভাবে দাসেরবাজার এলাকায়ও অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেয়া হয়। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে চান্দগ্রাম বাজারে গেলেও আবারও গাড়িটি আটকে দেন শ্রমিকরা। এ সময় অ্যাম্বুলেন্স চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে তারা মারধরও করতে থাকে। এক পর্যায়ে সেখানেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিনুল হক বলেন, এ ব্যাপারে কেউ এখনও কোনও অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা এই ধর্মঘটে রাজধানী সহ সারাদেশই ছিল স্থবির। কর্মস্থলে যেতে মানুষের পোহাতে হয়েছে অসনীয় দুর্ভোগ। কোথাও ইঞ্জিল চালিত কোনি গাড়ি নিয়ে রাস্তায় কেউ বেরিয়েছে তো তার গায়ে মেখে দেয়া হয়েছে মবিল। শুধু যাত্রীর গাড়িই নয় এম্বুলেন্স জরুরী অক্সিজেন সহ এমনকি স্কুলবাসে ভাঙচুর করে ছাত্রীর গায়ে পর্যন্ত লেপে দেয়া হয়েছে মবিল।

এ যেন নয় কোন আন্দালন বরং সহিংস কোন এক ক্ষোভের বহি:প্রকাশ। কিন্তু কী সেই ক্ষোভ বা কী চায় এই শ্রমিকরা এসব বিশৃঙ্ক্ষলা করার মধ্যদিয়ে? প্রশ্ন উঠেছে সর্ব মহলে। আন্দোলনের ভাষা কেন হবে নবজাতকের মৃত্যু কিবা স্কুল ছাত্রীর সাদা পোষাকে শ্রমিকের মবিল মেখে দেয়া? তাদের এই সহিংস হয়ে উঠার পেছনে কে বা কারা দায়ি সে প্রশ্ন সকলের। কে নেবে এর দায়ভার জানতে চায় ভুক্তভোগী সর্বমহল।

বিআইজে/

Comments