সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৩

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই দেশে  ১৬ দিনের সফর শেষে গত বুধবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে দেশে ফিরেন প্রধানমন্ত্রী। যথারীতি দুই দেশের সফরে নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানাতে আজ শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিকেল ৪টায় গণভবনের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিবার্চন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, বিএনপির আন্দোলন, সামরিক শাসন, ডেঙ্গু, রোহিঙ্গা ইস্যু, বিদ্যুৎ, রিজার্ভ ও  জ্যাক সুলিভানের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জ্যাক সুলিভানের সঙ্গে বৈঠক :

গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়ুর্কে বাংলাদেশের দূতাবাস পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। দূতাবাসে সেদিন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা?

জবাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কারো সঙ্গে কোনো কথা হয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের সঙ্গে বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কথা হয়নি এবং এ ব্যাপারে কেউ জিজ্ঞাসাও করেনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওই সাংবাদিক জানতে চান, জ্যাক সুলিভান কি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কোনো কথা বলেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি। ‘এ ব্যাপারে কেউ কথা বলছে?’ এমন পাল্টা প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ওই সাংবাদিক বলেন, এ রকম একটা কথা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো কথা হয় নাই। কেউ আমাকে এ ধরনের কথা জিজ্ঞাসাও করেনি। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অভিজ্ঞতা ২০০৭ সালে ২০০৮ সালে হয়ে গেছে আমাদের। তারপর কেউ এটা চাইতে পারে? এই সিস্টেমটা বিএনপি নষ্ট করে দিয়েছে।

Jake Sullivan - US

মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সুলিভান

তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে। জ্যাক সুলিভানকে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির আন্দোলন : 

বিএনপির চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, তাদের যে আন্দোলন, আমরা তো আন্দোলনে বাধা দিচ্ছি না। তারা আন্দোলন করে যাচ্ছে, লোকসমাগম করে যাচ্ছে, খুব ভালো কথা। এত কাল চুরিচামারি করে এত পয়সা বানিয়েছিল, আর যত টাকা মানি লন্ডারিং করেছিল, সেগুলোর ব্যবহার হচ্ছে। অন্তত সাধারণ মানুষের হাতে কিছু টাকা তো যাচ্ছে। আমি কিন্তু ওভাবেই বিবেচনা করি। তারা যত আন্দোলন করবে, সাধারণ মানুষের পকেটে কিছু টাকা যাবে। এই দুঃসময়ে সাধারণ মানুষ কিছু টাকা পেলে তো ভালো। এই টাকাগুলো তো বেরোনোর দরকার। সেই টাকাটাও বের হচ্ছে, মানুষও কিছু পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, তারা আন্দোলনও করতে থাকুক। তবে হ্যাঁ, আমি আগেও বলেছি, যদি মানুষের কোনো ক্ষতি করতে চেষ্টা করে, ওই রকম অগ্নিসন্ত্রাস—ওই ধরনের যদি কিছু করে। তখন তো ছাড়ব না। কারণ, আমাদের সাথে তো জনগণ আছে। আমাদের কিছু করা লাগবে না। জনগণকে ডাক দিলে তারাই ঠান্ডা করে দেবে। কারণ, যখন অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, তখন সাধারণ মানুষই ওদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, এবারও তা–ই হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, বিএনপি এত টাকা কোথা থেকে পায়, সেই খবর যাতে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের অনুরোধ করব, এই যে তাদের সোর্স অব মানিটা, এটা কোথা থেকে? সেটা একটু খবর নেওয়া দরকার যে তারা এত টাকা কোথা থেকে পায়। এত টাকা কীভাবে খরচ করে, সেটাও একটু খোঁজ নেওয়া দরকার।

‘বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আপনি খালি হাতে ফেরত এসেছেন। আবার এটার জবাব দিতে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, আপস হয়ে গিয়েছে, তাঁর ভঙ্গিমায় তাঁর মতো করে, পুরো বিষয়টা নিয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই’।

আরেক সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বলেছে খালি হাতে এসেছি, এ নিয়ে কোনো উত্তর দিতে চাই না। শুধু দেশবাসীকে বলতে চাই, বিএনপির নেতারা মাইক একখান লাগিয়ে কী হারে মিথ্যা কথা বলে, সেটা আপনারা সবাই জেনে নিন। মিথ্যা বলা যে তাদের অভ্যাস। সবকিছুই যে খাটো করে দেখার চেষ্টা—এটা সম্পর্কে যাতে দেশবাসী সচেষ্ট থাকে। তারা যা বলে, সব মিথ্যা কথা বলে। এই মিথ্যা কথায় কেউ কান দেবেন না। মিথ্যা কথা কেউ বিশ্বাস করবেন না। দেশবাসীর কাছে এটাই আহ্বান। ওদের জন্ম হয়েছে অবৈধভাবে, টিকেও আছে মিথ্যার ওপরে। আর কোনো শিকড় তো নেই।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি তো মাইক একটা লাগিয়েই রাখে। বলে আমাদের কথা বলতে দেয় না। আমরা নাকি তাদের মিছিল মিটিং করতে দিই না। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, বেশি দূর যাওয়ার কথা নয়, ২০০১–এ থাকতে আমাদের সাথে কী আচরণটা করত। আমাদের নেতা–কর্মী এখানে অনেকেই আছে, ধরে নিয়ে যেভাবে দিনের পর দিন তাদের ওপর টর্চার (নির্যাতন) করেছে, অত্যাচার করেছে, আমরা যদি তার একটা কণাও করতাম, তবে ওদের অস্তিত্বই থাকত না। থাকবে অস্তিত্ব, থাকবে না। আমরা তো ওদের খুলে দিয়েছি, যা খুশি করো। নিজেদের কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করে আসো।

তবে এ–ও বলেন, ‘অবশ্যই প্রতিযোগিতা থাকতে হবে, বিরোধী দল থাকতে হবে। কিন্তু বিরোধী দল কে? পার্লামেন্টে একটা সিট নাই। বিরোধী দল হিসাব করে তো রাখা যায় না। যার নির্বাচন করার মতো সাহস নেই। নির্বাচন করে পার্লামেন্টে আসতে পারে না। তারা আবার বিরোধী দল কিসের? গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংসদে যাদের আসন আছে, তারাই বিরোধী দল। রাস্তায় কে ঘেউ ঘেউ করে বেড়াল, সেটাকে বিদেশে কখনো বিরোধী দল হিসেবে ধরে না। এটা সকলের মনে রাখা উচিত।’

সুষ্ঠু নির্বাচন প্রসঙ্গ :

সুষ্ঠু নির্বাচন প্রসঙ্গে আমেরিকার দাবি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমেরিকাতে বলে এসেছি আমাকে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন শেখাতে হবে না। তারা বাস্তব অবস্থাটা বোঝে কিনা আমি জানি না, কিন্তু তাদের একই কথা, মানে ভাঙা রেকর্ড বাজিয়েই যাচ্ছে।

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষার তেমন কোনো তফাত দেখা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে অন্য কিছু আছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে এসে দেশটা যখন অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তখন হঠাৎ অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সবার এত মাতামাতি কেন?

কিছুটা তাচ্ছিল্য ও রসিকতার সুরেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সবার এত মাতামাতি কেন? সন্দেহ হয় রে…। এটাই বলতে হয়, সন্দেহ হয় রে…। আসল কথা নির্বাচনটাকে বানচাল করে দেওয়া। যারা জানে, নির্বাচনে ভোট পাবে না তারা সব জায়গায় গিয়ে ধরনা দিয়ে বেড়াচ্ছে। কারণ, তাদের তো কোটি কোটি টাকা। ক্ষমতায় থাকাকালে এত বেশি টাকার মারিল হয়ে গেছে তারা, অবাধে সেই টাকা খরচ করে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তো উন্নতিটা হচ্ছে। এখন এত প্রশ্ন আসে কেন সেটাই আমার কথা। একটা দেশ এত দ্রুত উন্নতি করে ফেলছে সেটাই সবার মাথাব্যথার কারণ হয়ে গেল কিনা এবং কীভাবে এটাকে নষ্ট করা যায় সেই প্রচেষ্টা কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ আমারও আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই আমরা করেছি। আর সেই নির্বাচন হয়েছে বলেই জনগণ আমাদের বারবার ভোট দিয়েছে, আর একটানা আমরা ক্ষমতায় আছি বলেই, অর্থনৈতিক উন্নতিটা হয়েছে।

বাংলাদেশের কিছু লোক নির্বাচন নিয়ে ‘একটু বেশি কথা’ বলে, সে কারণে বিদেশিরাও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলার সুযোগ পায়। দুর্ভাগ্য হলো সেটাই, যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে, জনগণের ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থেকে দেশ পরিচালনা করেছে, সেই সময় নির্বাচনের সুষ্ঠতা নিয়ে তাদের (বিদেশিদের) উদ্বেগ দেখিনি, বলেও মন্তব্য করেন শেখা হাসিনা।

‘আমি তাদের এটাও বলেছি যে, এক সময় আমাদের দেশে ছিল গভমেন্ট বাই দি আর্মি, অব দি আর্মি ফর দি জেনারেল। আর গভমেন্ট বাই দি পিপল, অব দি পিপল, ফর দি পিপল- এটা তো আমরা স্ট্যাবলিশ করেছি’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমি এ কথা বলে এসেছি যে- ভোটের জন্য তো আমরা সংগ্রাম করলাম। আমি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ দেশের মানুষের জন্য ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে দিয়েছি। আজকে আমাকে তো ভোটের বিষয়ে শেখাতে হবে না। জিয়া, এরশাদ, খালেদা সবাই তো ভোট চোর। আওয়ামী লীগের তো ভোট চুরি করা লাগে না। আমাদের তো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেয়। আমরা কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করি।

‘যারা ভোট চুরি করেছে তাদের কাছ থেকে এখন সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা শুনতে হয়’ উল্লেখ্য করে তাচ্ছিল্য প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ জানে, নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নতি হয়েছে। মানুষের দারিদ্র্যবিমোচন হয়েছে।

গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী

রিজার্ভ ও বিদ্যুৎ প্রসঙ্গ : 

‘আমাকে বেশি কথা বললে সব বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকব। ইলেকশনের পরে, যদি আসতে পারি, আবার করব। তারপর দেখি কে সাহস পায় নিতে…ক্ষমতা। সব গুছিয়ে দেওয়ার পরে এখন ইলেকশনের কথা, ভোটের কথা, অর্থনীতির কথা, পাকা পাকা কথা শুনতে হয়। আমি তো শুনতে রাজি না।’

দেশের রিজার্ভ নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি আরো বলেন, আমি এ দেশে আজকে না; ৭৭ বছর বয়স। সেই ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে মিছিল করি। তাহলে আমার রাজনীতির বয়স কত? স্কুলজীবন থেকে মিছিল করা শুরু করেছি। এ পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। মা, বাবা, ভাই, বোন—সব হারিয়েছি। হারাবারও কিছু নাই। আমি এখানে কিছু পেতে আসিনি, নিতেও আসিনি।

বাংলাদেশে উন্নয়ন বাতাসে হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে একটা দেশ মর্যাদা পাচ্ছে বিশ্বব্যাপী। আগে বাংলাদেশ শুনলে সবাই নাক সিটকাত। এখন সিটকায় না। বাংলাদেশ শুনলে একটা আলাদা মর্যাদা নিয়ে তাকায়। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখে। এটা মাথায় রাখতে হবে। এটা বাতাসে হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার আছে বলে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে দেশের উন্নতি করেছি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভাবমূর্তির উজ্জ্বল করেছি। যে কারণে এটা সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রিজার্ভ নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলতে পারে। যদি এত বেশি কথা হয়…যখন সরকার গঠন করেছিলাম, তখন যত ছিল, ওইখানে এনে রেখে আবার ইলেকশন করব। করে আবার বাড়াব। কিন্তু ওইখানে নিয়ে এসে দেখাব, এ-ই ছিল! বিদ্যুৎ শতভাগ কমিয়ে ২৮ ভাগে নিয়ে আসব? সবাই একটু টের পাক যে (বিএনপি সরকারের সময় বিদ্যুতের অবস্থা) কী ছিল। আমরা তো ভুলে যাই। বিদ্যুৎমন্ত্রীকে বলেছিলাম, প্রতিদিন যেন কিছুটা লোডশেডিং দেয়, তাহলে মানুষের মনে থাকবে যে লোডশেডিং আছে। পয়সা দিয়ে তেল কিনে জেনারেটর চালাতে হবে। তখন আবার আক্কেলটা ঠিক হবে যে এই অবস্থা তো ছিল। এখন তো আমরা করে দিচ্ছি, ভর্তুকি দিচ্ছি। কেন আমি ভর্তুকি দেব?’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গত বৃহস্পতিবার এর জ্বালানি ইউরেনিয়াম রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ থেকে বুঝে নেয় বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে সবাই আর ভর্তুকির সুযোগটা নিচ্ছে অর্থশালী-বড়লোকেরা—এমনটা স্বীকার করে শেখ হাসিনা বলেন, সেখানে একটা স্লট ঠিক করব এখন থেকে যে কত পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে, তাদের জন্য এক দাম আর তার থেকে যারা বেশি ব্যবহার করবে, তাদের জন্য আলাদা দাম। ইতিমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি, ওইভাবে কয়েকটা স্লট করে করে আমরা দেব। যে বেশি ব্যবহার করবে, তাকে বেশি দামে কিনতে হবে। সেইভাবে একটা ব্যবস্থা করার জন্য ইতিমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি। এটার ওপর কাজ চলছে, এভাবে আমরা করে দেব।

তবে রিজার্ভ কমে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তি দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার সময় আমাদের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। যোগাযোগ বন্ধ ছিল। যাতায়াত বন্ধ ছিল। সবকিছু বন্ধ ছিল। যার জন্য রিজার্ভ বেড়েছিল। এরপর অর্থনীতি খুলে গেল। সমস্ত জিনিস আমদানি শুরু হলো। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের রিজার্ভ কমবে, এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

সরকারপ্রধান আরো বলেন, ২০০৯ সালে যখন সরকার গঠন করি, তার আগে তো অনেক আঁতেল ক্ষমতায় ছিল। জ্ঞানীগুণীরা ছিল। রিজার্ভ কত ছিল? রিজার্ভ কত ছিল তখন? এক বিলিয়নও ছিল না! জিরো পয়েন্ট সেভেন সেভেন মিলিয়ন ছিল। আমি যখন ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করি, রিজার্ভ কত ছিল। বোধ হয় আড়াই মিলিয়ন, নট বিলিয়ন, ইভেন বিলিয়নের ধারেকাছেও নাই। যেটুকু বেড়েছে, আমাদের সরকারের সময় করেছি।

উদ্বেগজনক পর্যায় উল্লেখ করে রিজার্ভ ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিভিন্ন দেশ থেকে ঋণ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন দেশ-বিদেশের পরামর্শকগণ

এখন দেশের মানুষকে অন্ধকারে রেখে…যদি বলেন রিজার্ভ বাড়াতে হবে, তাহলে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দিই। পানি দেওয়া বন্ধ করে দিই। স্যার বন্ধ করে দিই। সব বন্ধ করে বসিয়ে রাখলে রিজার্ভ ভালো থাকবে। ‘রিজার্ভটা বেশি রাখা প্রয়োজন, না আমাদের দেশের মানুষের কমফোর্ট, দেশের মানুষের জন্য ভালো–মন্দ কাজ করা, কোনটা প্রয়োজন?’ এমন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

ডেঙ্গু : 

রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াল উৎপাত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের ফ্যাশন হয়ে গেছে, কেউ মশারি টাঙাতে চায় না। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সবাইকে মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে।

এছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে বিশ্ব নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে কয়েকটি বৈঠকের প্রসঙ্গ ‍তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সভায় আমি বেশকিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরি। ভবিষ্যতে মহামারি মোকাবিলা করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামো তৈরি করার প্রস্তাব করেছি।

ন্যায্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আলোচনায় আমি এসডিআর ঋণের সীমা কোটার পরিবর্তে প্রয়োজন ও ঝুঁকির ভিত্তিতে নির্ধারণ এবং সহজ ঋণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়েছি। এছাড়া, ঋণ দাতাদের মধ্যে সমন্বয় ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ন্যায্য এবং কার্যকর ঋণ সহজীকরণে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছি।

/এসএস/একুশনিউজ/

Comments